Blog

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং এ প্রথম কাজ পাবার অভিজ্ঞতা

২০১২ সালের জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখ আমার বাসায় আমি নিজের কম্পিউটার কিনে আনি। আমার বেতন থেকে জমানো টাকা, আমার বাবার কিছু টাকা সাথে মেজো মামার কিছু কন্ট্রিবিউশনের সমন্বয়ে নতুন পিসি, বাংলালায়নের মডেম কিনে এনেছিলাম সেই সময়। ইন্টারনেটভিত্তিক কাজের আগ্রহ ছিল ২০০৯ সাল থেকেই, যখন বিভিন্ন পত্রিকা আর ম্যাগাজিনে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে লেখা পড়তাম।

আমি যখন কম্পিউটার কিনে আনি তখন রায়ান্স আর্কাইভসে চাকুরি করতাম। সারাদিন অফিস করতাম। আর মাথায় ঘুর ঘুর করতো কিভাবে নিজের ইনকাম বাড়ানো যায়। পিটিসি ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তা তখন আকাশচুম্বী। নিজেও বেশ কিছু সময় নষ্ট করেছি এসবের সাথে।
আমার স্পষ্ট মনে আছে ২০১০ সাল থেকে আমি প্রায় প্রতি শুক্রবারে আমাদের এলাকার সাইবার ক্যাফেতে যেতাম দুপুরের খাবার খেয়েই। টানা ৫/৬ ঘন্টা পর বের হতাম। সেই সময় বিভিন্ন আর্টিকেল পড়তাম, টেকব্লগ পড়তাম। একদম লেটেস্ট গানগুলো ডাউনলোড করতাম। নেশা ছিল এসবেই। নতুন জিনিস জানা, নতুন টেকের ব্যপারে পড়ে সেটা ভাবতে থাকার দুনিয়ায় বুদ থাকতাম সারাক্ষণ!
একদিন বন্ধু গোলাম রাব্বানির সাথে মিরপুর ১০ নাম্বারে একটা ট্রেইনিং হাবের গ্রাফিক ডিজাইন কোর্সের স্কলারশিপের জন্য পরীক্ষা দিলাম কিন্তু ফুল ফ্রি না হওয়ার কারণে স্কিপ করে যাই।
এরপর রায়ান্সের কলিগ মুন্নার সাথে মিরপুর ১০ নাম্বারে যাই একটা আইটি ট্রেইনিং ইন্সটিটিউটে। কথা বলে জানলাম তারা ওডেস্কের জন্য কাজ শিখাবে। কিন্তু তাদের কথায় ভরসা পাই না বলে চলে আসি। এরপর মুন্না কিভাবে যেন কোন ভাইয়ের কাছ থেকে কাজ শিখে আর নিজেই কয়েকটা একাউন্ট খুলে ওডেস্কে কাজ শুরু করে দেয়। মুন্না আমাকে নিজের কাজ থেকে কিছু কাজ করতে দেয়। খুব এন্ট্রি লেভেলের কাজ। বেসিক দেখিয়ে দিয়েছিল সে আমাকে, বাকিটা ইউটিউব দেখে বুঝেছিলাম। কিন্তু সেই কাজ ছিল রিপিটেটিভ। নিজের স্কিল ডেভেলপ হচ্ছিল না।
অনেক দিন মুন্নার কাজ করি আমি। সারাদিন অফিস করে সন্ধার পর বাসায় ফিরেই রাত অবধি কাজ করতাম। শুধু মাথায় ছিল যে কাজ করতে হবে, কাজ শিখতে হবে। এমন অনেক দিন হয়েছে যে আমার রাতের খাবার আমার টেবিলের পাশেই রাখা আছে,
আর আমি টেবিলেই মাথা রেখে ঘুমাচ্ছি। সকালে আম্মু ঘুম থেকে তুলেছেন আর বকাঝকা তো আছেই!
যেহেতু মুন্নার একাউন্টে ক্লাইন্টের কাজ ছিল তাই সেটার বাইরে চেষ্টা করা হচ্ছিল না। নিজেকে একটা বাউন্ডারির মধ্যে আটকে আছি টাইপ মনে হচ্ছিল। নিজেকে বের করার তীব্র চেষ্টা করছিলাম কিন্তু কোনো কূল কিনারা পাচ্ছিলাম না। সেই সময় ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে সারা রাত পড়ে থাকতাম। সব পোষ্ট, কমেন্ট পড়তাম আর লাইক দিতাম। কমেন্ট করার সাহস হতো না। হাসির রাজা মাসুম রানার কথা বার্তা খুব ভাল লাগতো। উনার সাথে কয়েক বার কথা বলে সাহস পেলাম নিজেই একাউন্ট খুলে কাজ করার। তবে গ্রাফিক ডিজাইন কি জিনিস আর ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি জিনিস এগুলাই ভাল করে জানতাম না! সেই সময় মাসুম ভাই আমাকে হেল্প করেছিলেন এগুলা ক্লিয়ার হবার ব্যপারে।
আমার অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১২ সালের থার্ড কোয়ারটারে। তৎকালীন ওডেস্কে একাউন্ট খুলে মার্কেটিং (আমার পড়াশুনার বিষয় ছিল মার্কেটিং) রিলেটেড কিছু স্কিল সেট অ্যাড করে খুব একটা প্রিপারেশন ছাড়াই শুরু করি কাজে বিড করা। সেই সময় খুব বেশি কনফিউজড ছিলাম কিভাবে এই জার্নিটা চলবে আমার। কারণ কাজ জানতাম না খুব একটা। কিছু এন্ট্রি লেভেল বেসিক লিংক বানাতে পারতাম বিভিন্ন ফ্রি সাইটে। তবে আমার কমুনিকেশন স্কিলের উপর আমার একটা ভরসা ছিল।
শুরু করলাম বিড করা। প্রথম বিড করার ২২ দিনের মাথায় আমি প্রথম ইন্টারভিউ এর জন্য ডাক পাই এবং স্কাইপে চ্যাটিং করার পর প্রথম কাজটাও কনফার্ম হয়। খুবই কম রেটের কাজ ছিল সেটা কিন্তু প্রথম কাজ বলে কথা! টার্গেটড ফোরামে তার বিজনেস নিয়ে আলাপ করা ছিল কাজটা। খুব এঞ্জয় করে সপ্তাহে ২০ ঘন্টা করে কাজ করতাম আর ১০০ ডলার ছিল সাপ্তাহিক বাজেট আমার কাজের জন্য।
এক্সাইট্মেন্ট ছিল সেইইই, এখনও আমি সেই মুহূর্তটা ফিল করতে পারি ^_^
চাইনিজ বিজনেসম্যান সেই ক্লাইন্ট আমাকে অনেক কাজ শিখিয়েছে। কিছুদিন পরেই ওডেস্ক থেকে বের হয়ে স্ক্রিলে পে করা শুরু করে সে। মজার কথা হচ্ছে আমি এখনও তাকে সার্ভিস দেই। খুব ভাল বন্ধু হয়ে উঠেছে সে। কাজ ছাড়াও স্কাইপে বিভিন্ন সময়ে তার সাথে বিজনেস নিয়ে আলাপ আলোচনা হতে থাকে।
অনলাইন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস ভিত্তিক কাজ থেকে সরে এসেছি ২০১৩ সাল থেকেই কিন্তু আমার প্রথম ইন্টারনেশনাল ক্লাইন্ট আজ অবধি আমার ক্লাইন্ট <3
আলহামদুলিল্লাহ্‌!

You may also like

Eid Mubarak
Help others!

Leave a Comment